Breaking

আমাদের জীবনে এমন অনেক মুহূর্ত আসে, যখন আমাদের মনে হয় আমরা আমাদের মানসিক ক্ষমতার একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছি। সামনে জীবন কোনদিকে যাবে কিছু বোঝা যাচ্ছেনা; ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এই এমনি দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থা সবার জীবনেই কখনো না কখনো আসে আর সেই সময়েই পরিচয় পাওয়া যায় তার শিরদাঁড়ার ক্ষমতার।

Monday, June 17, 2019

জোয়ার ভাটা কেন হয়?

পৃথিবীর বাইরের মহাকর্ষীয়শক্তির (বিশেষ করে চাঁদের) প্রভাবেসমুদ্রপৃষ্ঠের পানি ফুলে ওঠাকে জোয়ার ওনেমে যাওয়ার ঘটনাকে ভাঁটা (একত্রেজোয়ার-ভাটা)
বলা হয়।

আপনাদের মধ্যে যারা কক্সবাজার গিয়েছেনতারা একটা দৃশ্য লক্ষ্য করে থাকবেন যেসৈকতের কাছাকাছি কোন বাঁশের গোঁড়ায়লাল পতাকা ঝুলছে। এই লাল পতাকার মানেযারা গিয়েছেন তারা নিশ্চয়ই জানেন। যদি নাজেনে থাকেন তাদের বলছি যে লাল পতাকামানে ‘এখন ভাটা চলছে ও সমুদ্রে নামা যাবেনা’। কেননা ভাটার সময় সমুদ্রের জলরাশিনেমে যায় ও এই সময় পানির স্রোত সমুদ্রতীরের বিপরীত দিকে থাকে। আর জোয়ারেরসময় পানির স্রোত থাকে তীরের দিকে।জোয়ার-ভাটা একটি প্রাকৃতিক ঘটনা।জোয়ার –ভাটা কেন হয় তা কি জানেনআপনারা।

জোয়ার-ভাটার কারণ:- পৃথিবীর যে পাশে চাঁদথাকে সে পাশে চাঁদের আকর্ষণে পৃথিবীপৃষ্ঠেরসমুদ্রের পানি তার নিচের মাটি অপেক্ষা বেশিজোরে আকৃষ্ট হয়। এ কারণে চাঁদের দিকেঅবস্থিত পানি বেশি ফুলে উঠে। একই সময়েপৃথিবীর যে অংশ চাঁদের বিপরীত দিকেথাকে, সেদিকের সমুদ্রের নিচের মাটি তারউপরের পানি অপেক্ষা চাঁদ কর্তৃক বেশিজোরে আকৃষ্ট হয়। আবার চাঁদ থেকে পানিরদূরত্ব মাটি অপেক্ষা বেশি থাকায় পানির উপরচাঁদের আকর্ষণ কম থাকে। ফলে সেখানকারপানি চারিদিকে ছাপিয়ে উঠে। এক্ষেত্রে ফুলেউঠার কাহিনীটিই ঘটে। ফলে একই সময়েচাঁদের দিকে এবং চাঁদের বিপরীত দিকেপৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির এই ফুলে উঠাকেজোয়ার বলে। আবার পৃথিবী ও চাঁদেরঘুর্ণনের কারণে চাঁদ পৃথিবী থেকে দূরে সরেগেলে ফুলে ওঠা পানি নেমে যায়। পানির এইনেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। পৃথিবী যে সময়েরমধ্যে নিজ অক্ষের চারদিকে একবার আবর্তনকরে (এক দিনে) সে সময়ের মধ্যে পৃথিবীরযেকোন অংশ একবার চাঁদের দিকে থাকেএবং একবার চাঁদের বিপরীত দিকে থাকে। একারণে পৃথিবীর যেকোন স্থানে দুইবারজোয়ার এবং দুইবার ভাটা হয়।

জোয়ার-ভাটা দুই প্রকার:মুখ্য জোয়ার এবংগৌণ জোয়ার।

মুখ্য জোয়ার:চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকেআবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রেরনিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষনসর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এ আকর্ষনে চারদিকহতে পানি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবংজোয়ার হয়। এরুপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্যজোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলা হয়।

গৌণ জোয়ার:
চন্দ্র পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তারবিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষণশুক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগশক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক হতে পানি ঐস্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবেচন্দ্রের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকেগৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Your Ad Spot